টায়ারে জেল ভরার সুবিধা ও অসুবিধা

1939

টায়ার পাংকচার একটি আতংকের নাম। রাস্তার মধ্যে টায়ার পাংকচার হওয়া যে কত কষ্টের এবং যন্ত্রনার তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানে। এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে টিউব লেস টায়ারের আগমন।

মোটরসাইকেল এর টায়ার মুলত দুই ধরনের হয়ে থাকে একটা হল টিউব টায়ার এবং আরেকটি হল টিউবলেস টায়ার। এই টিউব লেস টায়ারে পাংচার এড়াতে একধরনের জেল ব্যাবহার করা হয়।

এই আর্টিকেল টি পড়ে আপনি জানতে পারবেন টায়ারে জেল ভরার সুবিধা অসুবিধা। পুরো আর্টিকেল পড়ে আপনার মতামত কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না।

প্রথমেই জানা দরকার টিউব লেস টায়ার কি? এর প্রধান কাজ কি?

টিউবলেস টায়ার

টিউবলেস মানে টিউব নেই। এর টায়ার টাই সব কিছু। টায়ার টাই বাতাস ধরে রাখে। এর জন্য কোন টিউব দরকার পরে না। এই টায়ার টি রিমের সাথে আঁটসাঁট হয়ে লেগে থাকে বিধায় বাতাস বের হতে পারে না।

জেল কী

এটি একপ্রকার লিকুয়িড সিলেন্ট(জেল)। টিউবলেস টায়ারে যদি কোন ধারালো বস্তু দ্বারা আঘাত পায় এবং এর ফলে যদি টায়ার লিকেজ হয় সেক্ষেত্রে লিকুয়েড সিলেন্টটা খুব তাড়াতাড়ি করে সেই লিকেজ এর ছিদ্র বন্ধ করে দেয়। এটি প্রেসারাইজড ক্যান হতে এসেছে যেটা খুব সহজেই ব্যবহার করা যায়।

কী ভাবে টায়ারে জেল ব্যাবহার করবেন ?

এটি সহজেই প্রয়োগ করা যায়। কয়েকভাবে করতে পারেন। আপনি সরাসরি টায়ারের ভিতরে জেল ব্যাবহার করতে পারেন।

অথবা টায়ার ভালভ এর সাথে ক্যান এর নজেলটি ভালভাবে সংযুক্ত করে চাপ প্রয়োগ করলে ভেতর থেকে জেল বের হয়ে আসবে। জেলটি ভালভাবে চাপ দিয়ে পাংচার হওয়া স্থানে লাগিয়ে দিতে হবে এবং যথাযথভাবে এটি সিল করে দিতে হবে। এপ্লিকেটরটি টায়ার ভালভ এর সম্মুখে ব্যবহার করতে হবে এবং এটি যদি সুন্দর ভাবে স্থাপন করা যায় তবে সেখান থেকে কোন এয়ার লিকেজ হবে না।

এটি ব্যবহার করার সময় আপনাকে অবশ্যই নিজের নিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে। এর পাশাপাশি এটি অগ্নিদাহ্য, যার কারণে এটি রিপেয়ার করার সময় ধূমপান করা থেক বিরত থাকতে হবে। আপনি যদি ভালভাবে না বুঝেন তবে তবে ভালো টেকনিশিয়ান দিয়ে করান।

টায়ার জেলের যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি আছে খারাপ দিকও। সুতরাং সচেতনতার সাথে এটি ব্যাবহার করতে হবে। এবার আসুন জেনে নেই এর কিছু ভাল মন্দ দিক।

টায়ার জেল এর সুবিধা

  • টিউবলেস টায়ার পাতলা হওয়াতে বাইকের পারফরমেন্স ভাল দেয়।
  • টিউবলেস টায়ার মাইলেজ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  • টায়ার জেল অনেক দ্রুততম কার্যকরী ব্যবস্থা যা যে কোন পরিস্থিতিতে টায়ার পাংচার মেরামত করতে সক্ষম।
  • টায়ারের ভেতরে প্রবেশ করানো অল্প সময়ের মধ্যে কাজ করতে শুরু করে এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দুই থেকে তিন মিনিট সময় লাগে।
  • টায়ার খোলার  ঝামেলা ছাড়াই জেল ব্যবহার করা সম্ভব।
  • জেল ব্যবহারের কিছুক্ষনের মধ্যেই দূরের যাত্রা সম্পন্ন করতে পারা যায়।
  • টায়ার সিলেন্ট টায়ারের অভ্যন্তরীণ তাপের ফলে  ভেতরে বিস্তৃত হতে থাকে এবং এটি কাজ করা শুরু করে। এর মানে হল আপনাকে আলাদাভাবে  টায়ারের ভেতরে কোন লিকেজ খুজতে হবেনা, এটি নিজে থেকেই লিকেজ ব্লক করে দিবে।
  • পাংচারের ফলে টায়ারটি পরিবর্তন করতে হবে না। কম খরচে আবার ব্যাবহার করতে পারবেন।

টায়ার জেল এর অসুবিধা

  • টায়ার জেল এর ব্যবহার স্থায়ী কোন সমাধান নয়, একটি নিরদিস্থ সময় পর টায়ার রিপ্লেসমেন্ট করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
  • টায়ার জেলে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ক্যেমিক্যাল থাকে যেটা টায়ার থেকে বের করা বরই দুরুহ কাজ।
  • সঠিক ভাবে ব্যবহৃত না হলে এটি টায়ারের ক্ষতি করতে পারে।
  • জেল ব্যাবহার করলে সঠিক টায়ার প্রেসার নির্ণয় করা যায় না।
  • জেল ব্যাবহার করা হয়েছে এমন বাইক দীর্ঘদিন না চালালে, জেল জমা হয়ে যেতে পারে। পরবর্তীতে এটি দুর্ঘটনার কারন হতে পারে।
  • টায়ার জেল ব্যবহার টায়ারের আভ্যন্তরিন পরিবেশকে অনেক গরম করে দেয়।
  • বেশির ভাগ টায়ায় জেল গুলো হাই পারফরমেন্স এর জন্য ডিজাইন করা হয় না সুতরাং টায়ার পাংচারে জেল কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়।

মূলত টায়ার জেল ব্যবহার একটি সাময়িক সমাধান। এটি রিপেয়ার করার পর বেশী দিন টিকে না। আপনাকে আবশ্যই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টায়ারটি ঠিক করতে হবে।

তথ্য সুত্র : Wikipedia , motorcyclevalley.com , motorcycleviews , blog.gaadikey.com  , powersports-blog

আপনার কোন প্রস্ন থাকলে বা এই বিষয়ে কোন কিছু জানানোর থাকলে নীচের মন্তব্য বিভাগে লিখতে ভুলবেন না । আপনার রাইডার বন্ধুদের সাথে নিবন্ধটি শেয়ার করে নিন যাতে তারাও জানতে পারে ।

-BikeGuy Advertisement-