একজন মোটরবাইক চালকের পুর্নাঙ্গ গাইডলাইন/ পরামর্শসমুহ…

251

বেরোনোর আগে উপরওয়ালার নাম স্মরন করুন

প্রথমেই সৃষ্টিকর্তাকে স্মরন করুন। যাত্রা শুরুর আগে যার যার ধর্মের ভাষায় যা যা করতে বলা হয়েছে তা করে বের হন। এতে মানুষিক প্রশান্তি পাওয়া যায়।

তাড়াহুড়া করবেন না

বাইক স্টার্ট করে চলতে শুরু করুন ধিরে। প্রতিটা গিয়ার স্মুথলি বাড়ান এবং ইঞ্জিনে প্রেশার না দিয়ে প্রতিটা গিয়ারে যতক্ষন চালানো যায় চালান। এভাবে আস্তে আস্তে স্পিড বাড়াতে থাকুন। প্রথম অবস্থায় ৫০-৬০ কিমি গতিতে ১৫-২০ মিনিট চালান। ব্যাস ঠান্ডা ইঞ্জিন্টা বেশী সময় চালানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। এবার সম্ভভ হলে মাত্র ১০ মিনিটের জন্যে একটা ব্রেক নিন। ব্রেক শেষ করে আবার চালানো শুরু করুন। এবার খেয়াল করে দেখুন ইঞ্জিন অনেক ভালো পার্ফম করছে।  এবার চলতে থাকুন।  রাস্তায় ৫/১০/১৫/২০/ মিনিটের ব্রেক আপনার টাইমের কোন হেরফের করবে না। তাই ছোট ছোট ব্রেক গুলো আপনি প্রয়জন বুঝে নিন। আর রাস্তা বুঝে চালিয়ে সেটা কভার করে নিন। অযথা গতি বাড়াবেন না, আপনি একজন বাইকার এই পরিচয় ই থাক, জোরে গতির বাইকার বা স্লো গতির বাইকার উপাধি পেলে আপনার কি যায় আসে ভেবে দেখুন।

রাস্তায় বালি/কাদা/গুড়া পাথর/গোবড়/ খড়/শুকনো পাতা/পলিথিন/ তেল জাতীয় পদার্থ /পিচ্ছিল অন্য কোন কিছু থাকলে করনীয়

রাস্তায় এই জিনিস গুলো সামনে দেখা মাত্রই প্রচন্ড সতর্ক হয়ে যাবেন। ওগুলো পড়ে থাকা স্থানের আগে যতটুকু ভালো রাস্তা পাবেন, ততটুকু প্লেস এর মদ্ধ্যেই ব্যালেন্সড ব্রেক করে গতি নিয়ন্ত্রনের মদ্ধ্যে এনে, খারাপ প্লেস এ আসার মুহুর্তে ব্রেক দুইটাই ফ্রি করে দিবেন। এরপর সতর্ক থেকে  হাত ব্রেক এ হাত আর পা ব্রেক এ ডান পা রেখেই বাম পা পাদানি থেকে নিচে নামিয়ে স্লিপ করা ব্যালেন্স করবেন। আর বাইকের ভর টা চেস্টা করবেন বামে রাখতে। তাহলে স্লিপ করলেও বাম পায়ে সেভ করতে পারবেন। স্লিপ বেশি করলেই দুই পা রাস্তার উপরে চাপ দিয়ে ব্যালেন্স করতে হবে। আর কোন উপায় নেই। একটা গুরুত্বপুর্ন বিষয় হলো, পিচ্ছিল রাস্তায় গতি কম থাকলেও বাইক এর যেকোন চাকা কোন দিকে বাকা রেখে ব্রেক করবেন না। এই রিস্কি রাস্তায় দুই চাকাই সোজাসুজি থাকা অবস্থায় ব্রেক করতে হবে। আর যদি খুব বেশি স্পিডে হটাত করে সামনে এগুলো এসেই পড়ে তাহলে বাইকটাকে অতিরিক্ত নাড়া না দিয়ে, ব্রেক গুলো প্রেস না করে,  সোজাসুজি হ্যান্ডল ধরে থাকুন।  আপনার বাইকের ব্যাগপ্যাকগুলো যদি সঠিক ব্যালেন্সে ফিট করা থাকে তাহলে কোন সমস্যা হবে না। নিরাপদেই পার হয়ে যাবেন।

রাস্তার সামনে কুকুর/ শেয়াল/ ছাগল/ গরু ইত্যাদি দেখলে কি করলে ভালো হয়?

এগুলোর মদ্ধ্যে সবচেয়ে বেশি রাস্তায় দেখা যায় হল কুকুর। এই পশুগুলো পেছনের দিকে হটাত দৌড়াতে পারেনা। কিন্তু সামনের নের দিকে এলোমেলোভাবে দৌড়াতে ওস্তাদ। এদের কোনটাকে যদি দূর থেকে দেখেন, সেটা রাস্তার উপরে হোক বা হোক রাস্তার পাশে, তাহলেই সতর্ক হোন এবং লাঊড হর্ন দিয়ে সেটার মুভমেন্ট বুঝুন। এটা যদি রাস্তার উপরে থাকে বা সাইড থেকে রাস্তা পার হবার চেস্টা করে তাহলে গতি নিয়ন্রনে আনুন আর পশুটার পেছন দিয়ে চালিয়ে যান, সামনে দিয়ে যাবেন না। তবে গতি নিয়ন্ত্রনে রেখে চালান।

রাস্তার সামনে বা সাইডে ছোট বাচ্চাকাচ্চা/ বয়স্ক পুরুষ বা মহিলা দেখলে

দূর থেকে দেখলে জোরে হর্ন দিন, সামনে পিছনে রাস্তা দেখে যথেষ্ট দুরত্ব রেখে পার হয়ে যান। বিপদজনক অবস্থায় দেখলে ব্রেক করুন। যদি দেখেন এরা পার হবার জন্যে রাস্তায় উঠে পড়েছে তাহলে তাদের যেতে দিন, ব্রেক করুন।

রাস্তার উপড়ে বা পাশে ৮/১০/১২ বছরের সাইকেল চালকের দল

ইদানিং সাইকেল স্ট্যান্ট ট্রেন্ড সারা দেশে বিভিন্ন রকম রাস্তায় লক্ষ করা যায়। এরা রাস্তায় বিপদজনক, বাচ্চা ছেলেগুলা যে কোন মুহুর্তে সাইকেলের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে বাইকের সামনে চলে আসে। এজন্যে এদের দেখা মাত্রই বাইকের গতি নিয়ন্ত্রনে রেখে পার হয়ে যান।

সামনের বা পেছনের যানবাহন থেকে বাইকের দুরত্ব

অল্প গতিতে সামনের গাড়ির বেশ কাছাকাছিই থাকা যায়, কিন্ত বেশি গতিতে যখন চলবেন তখন অবশ্যই সামনের গাড়ি আর আপনার বাইকের মদ্ধ্যে এক ক্রিকেট পিচ মাপের দুরত্ব রেখে চলবেন। এই দুরত্ব বাইক ভালোভাবে নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়। আর এই টাইমে সাধারনত হাত বা ফুট বা গজ মাপা সম্ভব না, কিন্তু ক্রিকেট পিচের সাথে আমরা সবাই পরিচিত, তাই হিসেবটা অল্প সময়েই করে নেওয়া সম্ভব।  আর পেছনে কাছাকাছি দুরত্বে অন্য যানবাহন থাকলে বাইকারদের অসস্তি লাগে তাই টান দিয়ে নিরাপদ দুরত্বে গিয়ে চালাতে থাকুন অথবা পেছনের গাড়িকে সাইড দিয়ে দিন, আপনি আস্তে আস্তে পেছনে যান। লক্ষ্য রাখবেন যে গাড়ির পেছনে ছুটে চলছেন সেই গাড়ির ব্যাক লাইট ভালো আছে কিনা দেখে তার পেছনে যান অন্যথায় পেছনে যাবার জন্যে অন্য গাড়ি সিলেক্ট করুন।

ওভারটেক করার নিয়ম

প্রথমত- কোন মোড়, ব্রিজ পড়বে এমন অবস্থায় ওভারটেক করার বোকা জিদ মাথায় আনবেন না।

দ্বিতীয়ত- সামনা-সামনি দুইটা গাড়ি যে প্লেস এ ক্রস করে সেই প্লেস এ ভুলেও আপনি ঢুকে ৩ গাড়ির ক্রসিং পয়েন্ট হবেন না এবং ওই পয়েন্টে ওভারটেক করের রিস্ক নিবেন না।  দূর থেকেই মেপে নিন যে দুই গাড়ি কোথায় ক্রস করবে। হয় আগেই টান দিয়ে অনেক সামনে চলে যান অথবা ব্রেক করে  পেছনের গাড়িকে সামনে চলে যেতে দিন। আর ধরুন আপনি ওভারটেক শুরু করেছেন, কিন্তু দেখলেন যে অপরপাশ থেকে অন্য একটা গাড়ি আসছে বা রিস্কি মনে হচ্ছে, আপনার স্পিড এবং  যে গাড়িকে ক্রস করছেন তার স্পিড ও অনেক বেশি। এ অবস্থায় ব্রেক করে পেছনে চলে আসাই ভালো। আর যদি এই ওভারটেক টা করতেই হয় তাহলে গিয়ার একটা কমিয়ে দিয়ে, পিকাপ বাড়িয়ে আত্মবিশ্বাস রেখে সামনে চলে যান এবং গিয়ার আবার বাড়িয়ে দিন। মনে রাখতে হবে অস্বাভাবিক ওভারটেকিং এর ক্ষেত্রে বাইকারের আত্ববিশ্বাসই হলো মুল মন্ত্র। আত্ববিশ্বাসের ঘাটতি হলে হয়ে যাবে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আবার ধরুন  আপনার সামনের গাড়িটা আর একটা গাড়িকে ওভারটেক করছে এ অবস্থায় ব্রেক করে একটু পেছনে এসে দুই গারির মাঝের ফাকা দিয়ে দেখে নিন অপরপাশের গাড়ির গতিবিধি, এর পর আপনি আবার টান দিয়ে ওই গাড়িটির সাথে বেরিয়ে যান বা পরে আগের নিয়মে ওভারটেক করুন। ওয়ান ওয়ে রাস্তায় সাধারনত রাস্তার পাশে দারানো গাড়ি থাকে। তাই দূর থেকে রাস্তা ক্লিয়ার আছে কিনা দেখে এর পর ওভারটেক করুন।

হটাৎ সামনে স্পিডব্রেকার বা গর্ত বা ভাঙ্গাচোরা রাস্তা পড়লে কি করা উচিত?

রাস্তায় এসব সিচুয়েশন ডিল করার আগে একটা চিন্তা করুন। স্পিডব্রেকার বা গর্ত বা ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় হয় খুব আস্তে চালানো উচিত নাকি মোটামুটি স্পিডে যাওয়া উচিত, কিন্তু ৩০/৪০/৫০ স্পিডে যাওয়া উচিত না এতে বাইকে ঝাকি বেশী লাগে সাথে শরিরেও বেশী ঝাকি লাগে। আর যদি ভালো স্পিডে কন্ট্রোল করে চলতে পারেন তাহলে এই রাস্তার মজাও উপভোগ করা যায়। তবে কন্ট্রোল করার এই টিপস গুলো খেয়াল রাখতে হবে। স্পিড ব্রেকারের ক্ষেত্রে ৬০+ যেকোনো গতিতে থাকলেই বাইকের হ্যান্ডেল এর  গ্রিপ শক্ত করে ধরবেন কিন্তু রাস্তার প্রেশার দিয়ে ধরবেন না, এতে হাতের মাসল বেথা করবে। আর যখন স্পিডব্রেকারে উঠে যাবেন তখন ব্রেকে প্রেস করবেন না, পিকাপ ছেড়ে দিন, বসে থাকবেন না বা সোজাসুজি দারাবেন না, সামনে ঝুকে থাকবেন কিন্তু বেশী ঝুকে থাকা যাবেনা। জাম্প করার পর রাস্তা টাচ করার সময়ে পিকাপ আবার ধরুন এতে জোরে ঝাকি খাওয়া কমে যাবে।  রাস্তা ভাঙ্গাচোড়া থাকলে বাইকে বসে না থেকে অল্প উচু হয়ে পিকাপ ও ব্রেক কন্ট্রোল করে বাইক নিয়ন্ত্রনে এনে চালাতে থাকুন। ভালো গত ও নিয়ন্ত্রন থাকায় কোনো সমস্যা হবেনা। এসব সিচুয়েশনে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন হলো বাইক সোজাসুজি ধরে রাখা। যত সোজা থাকবে তত রিস্ক ফ্রি থাকবেন।

রাত্রে সামনের গাড়িগুলোকে আলোর সংকেত দেবার সঠিক নিয়ম

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে বাইক চালানো বিরতি দিন। মাগরিবের আযানের ১৫ মিনিট পরে বাইক স্টার্ট করুন। সন্ধ্যার এই ৩০ মিনিট সময় খুবই রিস্কি। এ সময় চোখে আলো আধারের খেলা চলে। আপনি ভালোকরে দেখলেও অন্য কেও হয়ত ভালোভাবে নাও দেখতে পারে। খুব বেশি খোলা রাস্তায়ও সাবধান থাকতে হয় এ সময়ে। সন্ধ্যায় সাধারনত সব পশু পাখি নিজ আবাসস্থলে ফেরে যায়। রাস্তায় এলোমেলোভাবে পারাপার হয় তাই রাস্তা কোলামেলা হোক বা ব্যাস্তময় হোক আপনি দুর্ঘটনার ঝুকি কমাতে ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিন। এর পরে বাইকের আলো জ্বালিয়ে চলতে থাকুন। বন্ধ থাকা বাইক স্টার্ট করেই হেড লাইটের পাশাপাশি ফগ লাইট, থারমাল লাইট, প্রজেক্টর লাইট এইসব জ্বালাবেন না। প্রথমে মুল হেড লাইট জ্বালান, এরপর মিনিট ১০ এর মত চলুন, এর পর রাস্তা বুঝে হেড লাইট অফ করে ফগ লাইট জ্বালান। আর অন্য গাড়ির দৃষ্টি আনতে ব্যাস্ত রাস্তায়, হেড লাইটে শুধুমাত্র ডিপার ব্যাবহার করুন। লং জার্নির ক্ষেত্রে যেখানে অনেকক্ষন পরপর গাড়ি তাদের হেডলাইট আপ করে আসে, এক্ষেত্রে রাস্তা সোজাসূজি হলে অনেক দূর থেকে আপনার ফগ লাইট অফ করে বেসিক লাইট জ্বালান, এতে অপ্র দিকের ড্রাইভার তার চোখে আরাম পাবে এবং তার লাইট ডাউন করে আপনাকে হেল্প করবে, এক্ষেত্রে অন্য কোন প্রব্লেম না হলে আপনি ডিপার দিবেন না। দিলে সামনের ড্রাইভার আপনাকে তার লাইট আপ করে দিতে পারে যা আবার ও বিরক্ত করবে। মুল কথা হলো ছোট লাইট ধারী বাহনকে আপনাকে আপনার পথ থেকে লাইট ও হর্ন প্রয়গের মাদ্ধ্যমে সরিয়ে দিতে হবে। এবং অনেক বড় লাইটের কাছাকাছি আসার আগেই আপনাকে যাতে সে হেল্প করে এজন্যে আপনাকেই আগে কনসিডার করার স্টেপ নিতে হবে। এ অবস্থায় রাগ করে সব লাইট অন করে বড় গাড়ির সামনে পড়া এড়িয়ে চলতে হবে। কোন ড্রাইভার যদি সামনে থেকে আপনাকে দেখেও ঝুকিপুর্নুভাবে ওভারটেক করে, এই টাইমে ডিপার বাম হাতে দিতে দিতে ডান হাত উচু করে তাকে থামান, না পারলে ব্রেক করে রাস্তার নিচে সাইড রাস্তায় নেমে তাকে সাইড দিয়ে দিন। জিদ করে রাস্তার উপর এই থাকার দরকার নেই। খুব মুশকিলে না পড়লে বামে চেপে একদম এক্সট্রিম শেষ প্রান্তে যাবেন না আগেই। হাত দুয়েক যায়গা রাখুন, প্রয়জনে শেষ মুহুর্তে সবচেয়ে বামে যান। আর মনে রাখুন, মুল রাস্তা থেকে নামার সাথে আপনার গতি নিয়ন্ত্রনে আনতে হবে এবং বাম পা পাদানি থাকে ফ্রি করে মাটিতে স্পর্শ করার প্রেপারেশনে থাকতে হবে। আর দিনেই হোক বা রাতেই হোক, সামনে বা পেছনে কেও থাকুক না থাকুক, লেন পরিবর্তন করতে অবশ্যই সিগনাল লাইট ব্যাবহার করুন। এটাকে অভ্যাসে পরিনত করুন। সবসময় কাজে লাগবে।

বাইক চালানোর সময়ে লুকিং গ্লাস দেখা এবং টার্ন লাইট সিগ্ন্যাল কন্ট্রোল এর উপর দক্ষতা

লুকিং গ্লাস দেখে বাইক চালানো টা খুবই প্রয়োজন। বাইক চালানোর সময় সাধারনত আমাদের ডানে বামে মুভ করতেই হয়। দুই চাকার এই বাহনটি কখনো একভাবে সমান্তরাল ভাবে ধরে রাখা যায় না। আর পেছন থেকে আসা গাড়ি সাধারনত সামনের গাড়ির থেকে বেশি রিস্কি হয়ে থাকে। আমরা চোখ দিয়ে সরাসরি সামনে দেখি, কিন্তু পেছনের গাড়ির মুভমেন্ট আমাদের লুকিং গ্লাসেই দেখে নিতে হয়।  এজন্যে বাইকে আপনি কোন মূডে বসবেন যেমনঃ সোজা হয়ে, কোমড় নরম করে, সামনে ঝুকে ইত্যাদি, যেভাবেই বসেন লুকিং গ্লাস আপনার সাথে এডজাস্ট করে নিয়ে বাইক স্টার্ট করবেন। চলতে চলতে আপনার বসার মুভমেন্ট থাকলে লুকিং গ্লাস এডজাস্ট করে নিবেন। সন্ধ্যা হবার সাথে সাথে যখন হেলমেটের গ্লাস ওয়াশ করবেন, তখুনি লুকিং গ্লাস দুইটাও পরিস্কার করে নিবেন। আর লুকিং গ্লাস যদি লুজ থাকে তাহলে চলার সময় ঝাকুনিতে তা ডিসপ্লেস হয়ে যাবে এবং আপনার ড্রাইভিং কনসেন্ট্রেশন নস্ট করবে, এজন্যে ১ মিনিটের ব্রেক দিয়ে, মাল্টিটুলস এর স্ক্রুডাইভার দিয়ে লুকিং গ্লাসের স্ক্রুগুলো টাইট করে নিন। সন্ধ্যা হবার সাথে সাথে লুকিং গ্লাস, হেল্মেট এর গ্লাস একুরেট থাকার সাথে কোন কম্প্রমাইস করবেন না। এছাড়া সামনে থেকে আসা বেপরওয়া গাড়িকে ডিপার দিয়ে সিগনাল দিয়ে আপনার অবস্থান জানান দিন। লেন পরিবর্তন করতে বা টার্ন নিতে অবশ্যই ইন্ডিকেটর দিন। মোট কথা হচ্ছে, লুকিং গ্লাস, টার্ন লাইট, লেন চেঞ্জ সিগনাল, ডিপার ইত্যাদি বিষয়গুলোর সাথে আপনাকে অভ্যস্ত হয়ে যেতে হবে। আজীবন বাইক চালাতে হলে এই বিষয়গুলোর সাথে অভ্যস্ত হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। আর অভ্যস্ত না হলে হয়ত কোন রিস্কি সিচুয়েশনে আপনি কোন সিগন্যাল দিলেন না ভুলে গেলেন, হতে পারে ওই টার্নই জীবনের শেষ টার্ন।

লেন চেঞ্জ করার নিয়ম এবং প্রথম লেন ও শেষ লেন এ চালানোর নিয়ম

ফাকা রাস্তায় চেস্টা করতে হয় রাস্তার মাঝখান দিয়ে বাইক চালাতে। এতে রাস্তার ডান বা বাম দিক থেকে হটাত রাস্তার উপরে আসা বস্তুগুলো থেকে সতর্ক থাকা যায়। তবে সামনে বা পেছন থেকে আসা গাড়িগুলো চলতে কোন ডিসটার্ব করা যাবে না,  হয় সাইড দিয়ে দিতে হবে বা সাইড করে নিয়ে পাস করে যেতে হবে। একদম বামের লেনে বাইক চালানো রিস্কি, এই লেনে, শুকনা পাতা, গাছ থেকে ঝড়ে পড়া ডালপালা, গোবড় ইত্যাদি এসব থাকে, তাই বিনা প্রয়জনে একদম বামের লেনে থাকা যাবেনা। লেন চেঞ্জ করার ক্ষেত্রে লুকিং গ্লাসে পেছনটা দেখে ইনডিকেটর দিয়ে লেন চেঞ্জ করতে হবে। ধরুন আপনি একটা গাড়ির পেছনে যাচ্ছেন, সামনে গাড়িটা ব্রেক করলো এক্ষেত্রে দানে বা বামে অবশ্যই না দেখে পাস করে যাওয়া যাবে না। এই সিচুয়েশনে খুব এক্সিডেন্ট হয়ে থাকে। ১ম লেন এ সাধারনত দ্রুতগামী গাড়ি থাকে, তাদের কে চলে যেতে দিন, আপনি না হয় একটু পরেই যান, কিন্তু প্লিজ হুট করে ডান বাম করবেন না। আর প্রথম লেন এ চললেও আইল্যান্ডের পাশ দিয়ে চলবেন না। আইল্যান্ডে গাছের কারনে, ইউটার্ন বা পথচারী দেখা যায় না। আর হাইওয়ে তে ডিভাইডারযুক্ত রাস্তায় ১ম লেনে স্লো চললে ডানের ইন্ডিকেটর দিয়ে চলুন, যাতে পেছনের দ্রুতগামী গাড়িচালক তার ডিসিশন নিয়ে আপনাকে সেফ করে চলে যেতে পারে।  আর একটা বিষয় মাথায় রাখুন, যদি চলার পথে সামনে দেখেন কোন পথচারী রাস্তায় পার হতে চায় বা কোন গাড়ি ইউটার্ন নিচ্ছে অথবা যে কোন কিছু আপনার সামনে রিস্কি। মনে রাখুন এক্ষেত্রে রাস্তা দেখুন পিচ্ছিল কিছু রাস্তায় আছে কিনা, পেছনে দেখুন কোন গাড়ি আছে কিনা, যদি সামনে বা পেছনে এগুলো কিছু থাকে তাহলে ব্রেক করে সামনে কিয়ার করে নিন। আর যদি দেখেন সামনে রাস্তা ক্লিয়ার বা পেছনেও কোন গাড়ি নেই, তাহলে সামনের রিস্কী সাবজেক্টের অবস্থা বুঝে থেমে যান বা মিনিমাম ১০ হাত দূর দিয়ে বাঊলিদিয়ে বের হয়ে যান। আপনার যদি হেলে দুলে বাঊলি দেবার ভালো এক্সপেরিয়েন্স না থাকে তাহলে এটা করবেন না। আর একটা কথা, বাইকে যদি ওভারওয়েট থাকে তাহলে বাউলি দিবেন না। ব্রেক করুন সামনে ক্লিয়ার হোক তারপরে যান। সবচেয়ে ভালো দূর থেকে দেখে হাতের ইশারা দিয়ে সামনের গাড়িকে ইউটার্ন নিয়ে নিতে বলুন বা থামতে বলুন, সাথে হর্ন- ডিপার ইউজ করতে পারেন।

অধিক ক্রোধ বা মন খারাপ নিয়ে বাইক চালানোর সময় সতর্কতা

ব্যাপারটা হয়ত খুবই হাস্যকর মনে হতে পারে, কিন্তু এটা খুবই জরুরি বিষয়। পৃথিবীতে বিভিন্ন সার্ভেতে দেখা গিয়েছে যে, অধিক রাগ সাধারনত স্বাভাবিক চিন্তা করতে দেয়না, এ সময় বাইক চালালে সাধারনত বেপরোয়া গতিতে চলতে ইচ্ছে করে, সিগন্যাল মানতে ইচ্ছা করেনা, টার্ন নেবার সময় স্লো করতে ইচ্ছা করেনা, কেও পাশ দিয়ে রিস্কি ভাবে চলে আসলে তার সাথে প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠতে ইচ্ছে করে। রাস্তায় কেও খারাপ আচরন করলে সব রাগ গিয়ে তার উপরে ঝারতে ইচ্ছা করে ইত্যাদি। আর মন খারাপ থাকলে দেখা যায়, বাইক আস্তে চলতে এমনকি, যেখানে সব গাড়িই জোরে চলছে সেখানেও আস্তে চলতে যা বিপদজনক।  মনখারাপ এর সময় চিন্তার গভিরতা বেশি হয়ে অন্য মনষ্কতা চলে আসে, শরির ও মনের দুর্বলতা কাজ করে। এগুলো রাস্তায় খুবই রিস্কি। তাই এই দুই মানষিক সিচুয়েশনে আমরা কি করলে ভালো হয়?  আমি একটা সমাধান বের করেছি আর তা হলোঃ আমি এই অবস্থায় ব্রেক নিই, পানি খাই, মুখ ধুইয়ে নেই, চোখ বন্ধকরে দুই হাত দুই দিকে প্রসারিত করে জোরে জোরে নিশ্বাস নেই, যতক্ষন না আমি কিছুটা স্বাভাবিক হই। এর পরে উপরওয়ালার নাম নিয়ে, দোয়াকালাম গুলো পড়তে পড়তে রেডি হয়ে আবার বাইক স্টার্ট করি। বিশ্বাস রাখতে হবে, রাস্তা আমার মত হবে না, কিন্তু আমাকে রাস্তার সাথে মিশে যেতে হবে, রাস্তাকে বোঝার জন্য মানষিকতা রেডি করে রাস্তায় নামতে হবে। জীবন একটা,  অন্য যেভাবেই যাক, বাইক চালাতে গিয়ে যেন প্রানটা না যায়।

 

আজ এই পর্যন্তই , পরবর্তীতে নতুন কোন বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে আসব, সে পর্যন্ত ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন । আপনার বাইক চালনা সুন্দর হোক এই প্রত্যাশা।

 

আর্টিকেল টি লিখে পাঠিয়েছেন BikeGuy ফ্যান ,তন্ময় সুভ্র

আপনার কোন প্রস্ন থাকলে বা এই বিষয়ে কোন কিছু জানানোর থাকলে নীচের মন্তব্য বিভাগে লিখতে ভুলবেন না । আপনার রাইডার বন্ধুদের সাথে নিবন্ধটি শেয়ার করে নিন যাতে তারাও জানতে পারে ।

-BikeGuy Advertisement-